

বদরগঞ্জ প্রতিনিধি
রংপুরের বদরগঞ্জে বিয়ের দাবিতে ১৫ ঘণ্টা অনশনের পর প্রেমিককে স্বামী হিসেবে পেয়ে নববধূ হয়ে ঘরে প্রবেশ করেছেন এক তরুণী। গত রোববার ওই তরুণীকে পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করেন প্রেমিক। গতকাল সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু হাসান কবীর।
জানা যায়, বছর দেড়েক আগে এই তরুণ-তরুণীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেছেন। রেস্তোরাঁয় খেয়েছেন, দিয়েছেন আড্ডা। তরুণ তার প্রেমিকাকে বিয়ের আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন প্রেমিক। এতে তরুণী দিশাহারা হয়ে পড়েন। বিয়ের দাবিতে তার প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। ওই তরুণ একটি কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়েন।
ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ‘কলেজে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর তরুণ তাকে বিয়ের কথা বলেন। কিছুদিন ধরে তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে আসছিলেন তরুণ। সপ্তাহখানেক তার সঙ্গে যোগাযোগ একেবারে বন্ধ করে দেন। বাধ্য হয়ে শনিবার (৬ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে তিনি ছেলের বাড়িতে যান। কিন্তু ছেলের পরিবারের সদস্যরা বাড়ির প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন। এ কারণে তিনি বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে দরজার সামনে অবস্থান নিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন। আশপাশের লোকজনও তার পক্ষে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, তরুণীকে বাড়িতে আসতে দেখে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন তরুণের স্বজনেরা। কিন্তু বিয়ের দাবিতে অনড় তরুণী ফটকের সামনেই অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন। অবস্থা বেগতিক বুঝে অনশনের ১৫ ঘণ্টা পরে গত রোববার ভোরে তরুণীকে তার পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করেন ওই প্রেমিক তরুণ। পরে নববধূর মর্যাদা নিয়ে তরুণীর ঠাঁই হয় ওই প্রেমিকের বাড়িতে।
গতকাল সোমবার ওই নববধূ বলেন, ছেলেটিকে বিয়ে করা ছাড়া আমার কোনো উপায় ছিল না। আমি ওকে ভালোবাসি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
প্রতিবেশী ইয়াছিন আলী বলেন, মেয়েটি তার দাবি আদায় করেই ছেড়েছেন। তাদের বিয়ে হওয়ায় এলাকাবাসীও খুশি।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ওসি আবু হাসান কবীর বলেন, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই বিয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে।
