

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ১২ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ করে দৈনিক দেশমা। গত ২২এপ্রিল দৈনিক দেশমা’য় লিড নিউজ ছিলো এটি। ওই সংবাদ প্রকাশের ১৬ দিন পর থানা পুলিশ ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়িতে পরিদর্শনে গেলে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে (৮মে) শিশুটির মা বাদি হয়ে ফুলবাড়ী থানায় অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম দয়ালের (৬৫) বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম দয়াল (৬৫) উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর মালিপাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ উদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি ভাঙড়ি ব্যবসায়ী। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হবার পর স্ব-পরিবারে এলাকা থেকে পালিয়েছেন তিনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই শিশুটির মা চাতাল শ্রমিক এবং বাবা পক্ষাঘাতগ্রস্থ ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালান। শিশুটি বেশিরভাগ সময় তার মামার বাড়িতেই থাকেন। আসামী নুরুল ওই শিশুটির প্রতিবেশী হওয়ায় তাদের বাড়িতে যাতায়াত ছিলো। এই সুযোগে শিশুটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষন করেন। সর্বশেষ গত ৫ ফেব্রুয়ারি নুরুল ইসলাম শিশুটিকে ফুসলিয়ে গ্রামের পাশে একটি ভুট্টা ক্ষেতের ভিতরে নিয়ে ধর্ষন করে। ধীরে ধীরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন উভয়পক্ষ। আসামী নুরুল ধর্ষণের বিষয়ে কাউকে না জানানোর জন্য বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও মেরে ফেলার হুমকিও দেয়।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, মাসখানেক আগে শিশুটির চেহারায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে তাঁর মামী। পরে পরীক্ষা করে দেখেন যে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। সপ্তাহখানেক আগে নুরুল স্থানীয় কয়েকজনকে সাথে নিয়ে শিশুটির পরিবারের সাথে আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। মীমাংসার নাটক সাজিয়ে শিশুটির পরিবারকে দেড় লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই শতক জমি লিখে দেয়ার আশ্বাসও দেয়া হয়। একইসাথে কথিত বিয়ের কথা বলে একটি খাতার মধ্যে শিশুটির স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, হঠাৎ করে জানতে পারি আমার মেয়ে গর্ভবতী। আমি নিজেই অসুস্থ, চেয়েচিন্তে খাই, মান সম্মানের ভয়ে এবং কয়েকজনের চাপাচাপিতে ওই লোকের সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হয়েছি। দেড় লাখ টাকা আর দুই শতক জমি দিতে চেয়েছে আমাদের। তবে টাকা এবং জমি কিছু পাই নাই। আমি নুরুলের শাস্তিসহ উপযুক্ত বিচার চাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ধর্ষণের ঘটনা আপোষ করতে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ধর্ষক দয়ালের কাছে প্রায় দেড় লাখ টাকা নিয়েছে। এমন কি টাকার ব্যবস্থা না হওয়ায় ধর্ষক নুরুল ইসলাম দয়ালের বাড়ি থেকে একটি গর্ভবতী গাভি নিয়ে যায় তারা। বিনিময়ে ধর্ষকের সাথে ১২ বছরের শিশুটিকে নামমাত্র বিয়ে দেয়া হয়।
শিশুটির সাথে আসামী নুরুল ইসলামের কথিত বিয়ের কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিবনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কাজী মো. শাকিব। মুঠোফোনে তাঁর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) আব্দুল লতিব শাহ্ জানান, শিশুটি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আপোষ করার চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অভিযুক্তসহ তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির মা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। একইসাথে যারা বেআইনিভাবে এই আপোষ-মীমাংসার সঙ্গে জড়িত ছিল, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
