

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রায় ১১ শতক জমি ধাপে ধাপে দখল করে একাধিক দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, বছরের পর বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি দখল হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখন পুরো জমিই বেদখলের ঝুঁকিতে পড়েছে।
এ ঘটনায় সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রাজ্জাক সরদার।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোপীনাথপুর-ফুলদিঘী সড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত মাদ্রাসার জমিতে ইতোমধ্যে কয়েকটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মৌখিক অনুমতিতে আলাল উদ্দীন সেখানে একটি দোকানঘর নির্মাণ করেন। বিনিময়ে তিনি মাসিক ৩০০ টাকা ভাড়া দিলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর একই জমিতে আরও দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেন ফারুক ও রাসেল হোসেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সম্প্রতি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত এক যুবকের কর্মসংস্থানের কথা বলে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজার রহমান তোতা ও স্থানীয় প্রভাবশালী সোহেল রানা নতুন করে আরও একটি দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বাধা দিলে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কয়েকদিন আগে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জোরপূর্বক বাঁশের খুঁটি পুঁতে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করা হয়। এ সময় মাদ্রাসার পুরোনো টিনও সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদ্রাসার জমিদাতা ফুলবর রহমান সোনার বলেন, এই জমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য দান করা হয়েছিল। কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে দোকানঘর তুলে জমি দখল করা হচ্ছে। আমরা বাধা দিলেও কোনো ফল হয়নি। এখন মানবিকতার কথা বলে নতুন করে দখলের চেষ্টা চলছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাফিজার রহমান তোতা। তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত নাহিদ প্রধানের কোনো আয়ের উৎস নেই। মানবিক কারণে তার কর্মসংস্থানের জন্য সহযোগিতা করেছি। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বরং মাদ্রাসার টিন বিক্রির চেষ্টার প্রতিবাদ করায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রাজ্জাক সরদার বলেন, মাদ্রাসার নিজস্ব জমিতে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি রক্ষার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন, মাদ্রাসার বৈধ কমিটি রয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তরা কমিটির কোনো সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব না দিয়ে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর-রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পত্তি, তাই আইনগত প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
