

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাঈমুজ্জামান মুক্তার স্ত্রী, যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর কাজী মৌসুমীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও পঞ্চগড় যুব মহিলা লীগের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিনকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ মাহাবুব আলী মুয়াদের আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। এ সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছর আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে কেক কাটার আয়োজন করেন কাজী মৌসুমী। এ ঘটনায় ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গত বছরের ২১ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক মানিক মিয়া বাদী হয়ে ৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে কাজী মৌসুমী উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। ওই জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মির্জা সারওয়ার হোসেন বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার মক্কেল তদন্ত কর্মকর্তার ডাকে সাড়া দেওয়ার শর্তে জামিনে ছিলেন। এছাড়া তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এবং তার একটি প্রতিবন্ধী সন্তান চিকিৎসাধীন রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জামিন দেওয়া উচিত ছিল।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পিপি অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল বলেন, তিনি জামিনের বিরোধিতা করেছেন। তার দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম প্রচার, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ মামলায় উল্লেখ রয়েছে। আদালত বিষয়গুলো বিবেচনা করে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে শিগগিরই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
