

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ এম.পি বলেছেন, আমরা কথায় নয় কাজে বিশ্বাস করি এবং সেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমরা নির্বাচনী ইশতিহারে যা বলেছি সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমাদের যে মেয়াদ, সে মেয়াদের মধ্যে আমরা বাস্তবায়ন করবই। আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছি, আমরা শুরু করেছি পাইলট প্রজেক্ট দিয়ে। এ বছর আমরা ৪১ লক্ষ অর্থাৎ প্রত্যেকটি উপজেলায় সাড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার মা বোনকে ফ্যামিলি কার্ডটা তাদের হাতে পৌঁছায় দিব।
এই ফ্যামিলি কার্ডের পাঁচটি ক্যারিটোরিয়া আছে এর মধ্যে তিনটি ক্যারিটোরিয়াকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। ফাস্ট ক্যারিটোরিয়া একেবারে ভূমিহীন নিঃস্ব, সেকেন্ড ক্যারিটোরিয়া যাদের শুধু ভিটেমাটি আছে আর কোন কিছু নাই, থার্ড ক্যারিটোরিয়া হচ্ছে যাদের অল্প চাষাবাদ করার জমি আছে। এই তিন ক্যারিটোয়াতে আমরা ফাস্ট প্রায়োরিটি দিয়ে আমাদের কাজ শুরু করেছি। এ বছর আমরা ৪১ লক্ষ ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে মা বোনদের স্বনির্ভর করে তুলব।
আজ শনিবার সকালে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের আয়োজনে জেলা পরিষদ চত্বরে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিল এবং অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থী, গরীব, দুঃস্থ ও স্বাস্থ্য কর্মীদের মাঝে বাই সাইকেল, সেলাই মেশিন, শাড়ি ও বিপি মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন । পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন, পুলিশ সুপার মো. আবু সায়েম, সিভিল সার্জন ডাঃ মিজানুর রহমান, পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার, জেলা বিএনপির আহবায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু।
উক্ত অনুষ্ঠানে ৪০টি বাইসাইকেল, ৪৪টি সেলাই মেশিন ও ১১১টি বিপি মেশিন, ৫০টি শাড়ি ও ৯টি বিদ্যালয়ে খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আরো বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা সরকার গঠন করলে কৃষক কার্ড দেব, ইতিমধ্যে আমরা সেই কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছি। আমরা পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে ১০ টি জেলায় ১২ টি জায়গায় আমরা সেটা প্রদান করেছি। এবছরের জুলাই থেকে আগামী জুনের মধ্যে আমরা ৪৩ লক্ষ অর্থাৎ প্রত্যেকটি উপজেলায় ১০ হাজার কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করব।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ছিল কৃষকদের কৃষি ঋণ মওকুফ করে দিব। প্রথম কেবিনেট মিটিং এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আমাদের যেই ব্যাংকের হোক যে কৃষকের ১০ হাজার টাকার বেশি ঋণ আছে, সুদসহ আমাদের ১৩ লক্ষ কৃষকের প্রায় ১৫ কোটির বেশি টাকা আমরা সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছি।
আমরা বলেছি ইমাম মুয়াজ্জিন পুরোহিত দেরকে সম্মানী ভাতা দিব , শুরু করেছি ইনশাল্লাহ সামনের মাস থেকে এক একটা ইউনিয়নে কমপক্ষে ১৩ টি মসজিদ এবং সংখ্যালঘু মন্দিরদেরকে সেই ভাবে সম্মানী ভাতা পৌঁছে দিব। একদিনে সম্ভব নয় আমাদের সময় দিতে হবে পর্যায়ক্রমে আমরা সেটা বাস্তবায়ন করব।
আমরা বলেছি আমরা স্বাস্থ্যসেবা আপনাদের ঘরের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিব ইনশাল্লাহ অল্পদিনের ভেতরে আমরা এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিব এবং তার মধ্য দিয়ে আপনাদের স্বাস্থ্যসেবা যেন ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারি তার ব্যবস্থা করব। ইনশাল্লাহ আমরা স্বাস্থ্য কার্ডও আপনাদেরকে প্রদান করব।
