

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা খনি করার বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন গণসংহতি আন্দোলন।
আজ বুধবার রাত সাড়ে ৮ টায় পৌর শহরের নিমতলা মোড়ে এই প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা। এর আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
গত ১৯ আগস্ট অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি করার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে গণসংহতি আন্দোলন ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণসংহতি আন্দোলনের ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সদস্য সচিব ও জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা নাজার আহম্মেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ফাতেমা রহমান বিথী, গণসংহতি আন্দোলন এর জাতীয় পরিষদ সদস্য প্রত্যয়ী মিজান, ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক আবুল খায়ের, যুগ্ম সদস্য সচিব মেরাজ হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক পলাশ চন্দ্র, কৃষকনেতা মোতাহার আলী, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি শাকিরুল ইসলাম শাকি, সাধারণ সম্পাদক রায়হান কবির সরকারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগণ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফুলবাড়ীর মাটিতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের কোনো ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না। ফুলবাড়ীর মানুষ অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছে, উন্মুক্ত খনি শুধু কয়লা উত্তোলনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি, পরিবেশ, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা জড়িত।
বক্তারা আরও বলেন, ২০০৬ সালের ফুলবাড়ী গণআন্দোলনের শহীদ আমিন, সালেকিন ও তরিকুলের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ছয় দফা চুক্তি বাস্তবায়ন না করে নতুন করে উন্মুক্ত কয়লা খনির আলোচনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত খনি করার যে কোন উদ্যোগের বিরুদ্ধে গণসংহতি আন্দোলন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থাকবে।
সমাবেশ থেকে ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা খনি করার বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং ফুলবাড়ীর জনগণের মতামত ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর ও ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারী দেয়া হয়।
