

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে বাবা-ছেলেকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭নং শিবনগর ইউনিয়নের গোপালপুর (বেহারীপাড়া) গ্রামের সৈয়দ আব্দুর রহিমের বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী চককবির গ্রামের সৈয়দ রেজাউল করিম ভুট্টু গত ১সেপ্টেম্বর সকালে তার ভাড়াটে দলবল নিয়ে আব্দুর রহিম (৫৫) ও তার ছেলে সুমন ইসলাম (১৩) কে ঘুম থেকে ডেকে তুলে নেয়। বাবা ছেলেকে চককবির গ্রামে নিয়ে তাদের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ২লাখ টাকা দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না পেয়ে বাবা ছেলেকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এসময় পরিবারের লোকজন উপায় না পেয়ে থানায় যোগাযোগ করলে থানা পুলিশের একটি টিম চককবির গ্রামের সৈয়দ রেজাউল করিম ভুট্টুর বাড়ি থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে। এসময় গুরুতর আহত হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করে থানা পুলিশ।
ওই দিনই আব্দুর রহিমের স্ত্রী শেফালী বেগম বাদী হয়ে চককবির গ্রামের সৈয়দ রুহুল আমীনের ছেলে সৈয়দ রেজাউল করিম ভুট্টু, সৈয়দ ইব্রাহীম তুহিন, একই গ্রামের মৃত এমদাদুল হকের ছেলে মো. বকুল, মো. বুলু, মো. আবু, মৃত আছাদুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম, মৃত বাবু মন্ডলের ছেলে রিদয়, মাছুয়া পাড়া গ্রামের স্বর্গীয় নবানু চন্দ্রের ছেলে শ্রী রনজীত, গোপালপুর গ্রামের স্বর্গীয় সুবাশ চন্দ্রের ছেলে উজ্জ্বল চন্দ্রসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারী শেফালী বেগম বলেন, কোন রকম ঝগড়া বিবাদ ছাড়াই ভাড়াটে লোকজন নিয়ে এসে ঘুমন্ত বাবা ছেলেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে। যদি আমার স্বামী কোন অপরাধ করেই থাকে তার জন্য থানা আছে, আইন আছে। তারা তুলে নিয়ে মুক্তিপণ চাওয়ার কে? মুক্তিপণ না পেয়ে বাবার সামনে ছেলেকে, ছেলের সামনে বাবাকে পেটানোর কে? আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
ফুলবাড়ী থানার উপপরিদর্শক রাফিউল ইসলাম বলেন, পূর্বের চুরি সংক্রান্ত একটি বিষয়ে গন্ডগোল হয়েছিল। আমরা গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপালে ভর্তি করি। আব্দুর রহিমের স্ত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা সুস্থ হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
