

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ৯১ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফরম পূরণের প্রায় তিন লাখ টাকা নিয়ে এক কর্মচারী উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ আগস্ট থেকে মাস্টার রোলের কর্মচারী আনোয়ার হোসেন কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁদের ফরম পূরণ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে কোনো সমস্যা হবে না।
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ইংরেজি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিতে ৯১ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেন। ফরম পূরণ বাবদ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪ হাজার ৯৩৯ টাকা করে মোট ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৯ টাকা আদায় করা হয়।
এর মধ্যে কলেজের পাওনা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৯ টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা কলেজের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। পরে কলেজের নথিপত্র ও ব্যাংক হিসাব যাচাই করে ওই অর্থ জমা দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় গত ১২ আগস্ট ফুলবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. শামীন আকতার।
থানায় দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ফরম পূরণের টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন মৌখিকভাবে টাকা জমা দেওয়ার কথা জানান। তবে হিসাব মেলানোর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হলে গত ৪ আগস্ট থেকে তিনি কলেজে আসা বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে দায়িত্বও হস্তান্তর করেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইংরেজি বিভাগের গোপনীয় নথিপত্র, আবেদন ফরম ও রেজিস্টার খাতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তাঁর জিম্মায় রয়েছে। এতে এসব নথি গোপন বা অপব্যবহারের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রেজাউল করিম, শাহেদ আলী, শামীমা ইয়াসমিন ও গোপাল চন্দ্র সরকার বলেন, কর্মচারী আনোয়ার হোসেন ফরম পূরণের টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি জানার পর থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
তাঁরা জানান, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইংরেজি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফরম পূরণের অর্থ নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় পরীক্ষা নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আহসান হাবীব বলেন, কর্মচারী টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের উৎকণ্ঠিত হওয়ার কারণ নেই। যথানিয়মে সব শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁরা আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ইংরেজি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফরম পূরণের টাকার মধ্যে ২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা নিয়ে আনোয়ার হোসেন গত ৪ আগস্ট থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেও কলেজের অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের বিষয়ে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
