

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির কারণে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের পণ্য পরিবহন সহ সার্বিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা ও নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন মূল্যের পর থেকে বন্দরের পণ্য পরিবহন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে বিপাকে পড়েছে আমদানি কারকসহ বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল মঙ্গলবার হিলি স্থলবন্দরে ট্রাক চালক, ব্যবসায়ীসহ বন্দর সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে সার্বিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি জানা গেছে।
হিলি বন্দর থেকে ভারতীয় পণ্য দেশীয় ট্রাকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া ট্রাকচালক আরিফ হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর গন্তব্য ও দূরত্ব ভেদে ট্রাক প্রতি ভাড়া ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়তি ভাড়া দিতে অনীহা দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে আমাদের অনেক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
আরিফ হোসেন আরও বলেন, পূর্বে যে রুটে (ঢাকা) ট্রাক ভাড়া ছিল ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা, তা বর্তমানে বেড়ে ২৫ হাজার থেকে ২৬ হাজার টাকা হয়েছে। এখন কেমনে কি করি? দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেছি। আবার গাড়ি না চালালে পরিবারের লোকজন কিভাবে চলবে। ঢাকার উদ্দেশ্য একটা গাড়ি রওনা হলে সর্বনিম্ন ১০০ লিটার তেল লাগবে। সেই তুলনায় ভাড়া তো বৃদ্ধি পায়নি। গাড়ি নিয়ে ঢাকা গিয়ে মালিককে কি দিব, আমি এবং আমার হেল্পার বেতন কী নিব? তবে সবকিছুর সঠিক সমাধান হওয়া দরকার।
বন্দরের ব্যবসায়ীরা বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মূলত গম, ভুট্টা, ভুসি, জিরা ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত পরিবহন খরচের কারণে আমদানিকৃত পণ্য দেশের অভ্যন্তরে পাঠাতে আমদানিকারকরা বড় ধরনের লোকসান ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ফলে বড় অংকের রাজস্ব ঘাটতিরও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাই যতদ্রুত সম্ভব এবিষয়ে সরকারের কাছে সঠিক এবং বাস্তবমুখী সমাধান চান ব্যবসায়ীরা।
তারা আরও বলেন, দূরপাল্লার ট্রাকের সংকট এবং ভাড়া নিয়ে পরিবহন মালিকদের সাথে দর কষাকষির ফলে বন্দরে পণ্য বেচাকেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পণ্য খালাস ধীরগতিতে হওয়ায় বন্দরে ও ওপারে শত শত ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে আছে। এতে বেসরকারী অপারেটর হিলি পানামা পোর্ট লিংক লিঃ এর ভিতরে ভারতীয় ট্রাকের জট লেগেছে বলে জানান তারা।
ব্যবসায়ীদের অনেক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং আমদানিকারকদের সাথে আগে থেকেই বার্ষিক বা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পণ্য সরবরাহের চুক্তি থাকায়, তারা এখন বাড়তি ভাড়ার কারণে লোকসান দিয়ে মালামাল পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পরিবহন খরচ ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আমদানিকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দেশের বাজারে আরও বেড়ে যাবে, যা সাধারণ মানুষ এবং ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় দুইশ ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে।
