×

চিরিরবন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের এলাহী কান্ড

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলে এলাহীর বিরুদ্ধে শিক্ষকদের বেতন স্কেল বৃদ্ধি, এমপিওভুক্তির আবেদন পাঠানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষক ও একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের জন্য নির্ধারিত ফির বাইরে তাঁকে অর্থ দিতে হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলে এলাহী।
অভিযোগকারী শিক্ষকদের ভাষ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন স্কেল বৃদ্ধির আবেদন অনলাইনে পাঠানোর জন্য শিক্ষকপ্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ফাইল পাঠাতেও শিক্ষকপ্রতি ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অফিস সহায়ক, আয়া, নিরাপত্তাপ্রহরী ও নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রার্থীদের কাছ থেকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক।
দক্ষিণ পলাশবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) তারিকুজ্জামান বলেন, তাঁর বেতন স্কেল বৃদ্ধির আবেদন পাঠানোর জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রথমে চার হাজার টাকা চান। তিনি টাকা দিতে না পারায় ফাইল আটকে রাখা হয়। পরে ১ হাজার ৬০০ টাকা দেওয়ার পর আবেদনটি পাঠানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (আইসিটি) কামরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে টাকা ছাড়া কাজ করানো কঠিন। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যালয়ের সভাপতি সরকারদলীয় হুইপ ও দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়ার কথা উল্লেখ করলেও শিক্ষা কর্মকর্তা তাঁকে হুইপকে ফোন দিতে বলেন, অন্যথায় টাকা দিতে বলেন। পরে বাধ্য হয়ে দুই হাজার টাকা দেওয়ার পর বেতন স্কেল বৃদ্ধির আবেদন পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দক্ষিণ সুখদেবপুর নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী শিক্ষক অভিযোগ করেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান নতুন করে এমপিওভুক্ত হওয়ার পর শিক্ষকদের ফাইলে স্বাক্ষর করার জন্য শিক্ষকপ্রতি ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের কাছ থেকেও পদভেদে প্রায় এক লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজাপুর বুড়িহাট উচ্চ বিদ্যালয়, সিঙ্গানগর উচ্চ বিদ্যালয় ও বিন্যাকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকেরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ করাতে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ‘চা-নাশতার’ খরচ দিতে হয়। টাকা না দিলে কাজ আটকে থাকে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
শিক্ষকদের কয়েকজনের অভিযোগ, অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। এ কারণে অনেকে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না। তাঁদের দাবি, শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলে এলাহী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা। তিনি শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় কাজ করে দেন। তাঁর ভাষ্য, কিছু শিক্ষক সংসদের হুইপের পরিচয় দিয়ে কাজ করাতে চান। তিনি তাঁদের হুইপকে ফোন দিতে বলেছিলেন। এ কারণে হয়তো কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।