

পাঁচবিবি প্রতিনিধি
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর গ্রামের কলেজ ছাত্র নজিবুল সরকার বিশাল সহ আন্দোলনে নিহত সকলের হত্যার বিচার ও নিহতদের শহিদী মর্যাদা প্রদানের দাবি করেন নিহত বিশালালের বাবা মজিদুল সরকার ও মা বুলবুলি খাতুন। সরেজমিনে নিহত বিশালের বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন তারা। সরেজমিনে দেখা যায়, নিহত বিশালদের বাড়ি ভিটার জায়গা ছাড়া কিছুই নেই। ৩ শতাংশ জমিতে টিনের বেড়া আর টিনের চালা দিয়ে দুইটি ঘর। আঙ্গিঁনায় রান্না ঘর আর এক পাশে ছাগল বাঁধার জায়গা। ঘরের বারান্দায় বাবা শ্যালো মেকানিকের রাখা ভাঙ্গা যন্ত্রপাতি। আয় রোজগারের ভাঙ্গা যন্ত্রপাতি নিয়েই বাবা প্রতিনিয়ত বেরিয়ে যায় মানুষের বাড়ি বাড়ি শ্যালো মেশিন আর জমি চাষের পাওয়ার টিলার ঠিক করতে। বাবার আয়েই উপর ভর করেই চলত সংসারের ভরণ পোষন আর নিজের সহ ভাইয়ের লেখা পড়া। কলেজ বন্ধের দিনে বাবার সাথে নিজেও কাজ করে টাকা উপার্জন করতো নজিবুল সরকার বিশাল(২০)। পরিবারের চালানোর পাশাপাশি নবম শ্রেণীতে পড়া ছোটভাই মুমিন সরকারকে মানুষ করার স্বপ্নও ছিল বিশালের। বাবা মা পরিবার আর ভাইকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে পাঁজরে লাগা গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় শহীদ বিশালের দেহ। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের আগের দিন ০৪ আগষ্ট বেলা ১১ টার পর জয়পুরহাট জেলা শহরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় নজিবুল সরকার বিশাল। বিশাল পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জি ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের বাবা মজিদুল সরকার আর মা বুলবুলি খাতুনের বড় সন্তান। পাঁচবিবি বিজনেজ ম্যানেজমেন্ট ইনষ্টিটিউট কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। ২০২৩ সালে রতনপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে কলেজে ভর্তি হয় বিশাল। ছোট ভাই মুমিন সরকার রতনপুর উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। পুত্র শোকে নিস্তব্দ হয়ে যাওয়া বাবা মা বিশালকে নিয়ে কথা বলতে গেলেই ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠছেন। মা বুলবুলি খাতুন বলেন, ঘটনার দিন স্থানীয় বাজারে ওষুধ আনার কথা বলে সকালে ভাত খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় বিশাল। এরপর দেড় দুই ঘন্টা পর শুনতে পাই বিশাল জয়পুরহাটে আন্দোলনে গিয়ে গুলি খাইছে। পরে জেনেছি জয়পুরহাট সদর হাসাপাতল থেকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায়। মারা যাওয়ার পর ওর বন্ধুদের কাছে জানতে পারি মোবাইলে বন্ধুদের সাথে আগের রাতে তাদের ফেসবুক গ্রুপে আন্দোলন নিয়ে আলাপ আলোচনা করে। বিশালের মা জানান, ছেলের ভালো করে লেখা পড়া আর সংসারের আয় উন্নতি করার জন্য স্থানীয় বেসরকারী সংস্থা জাকস ফাউন্ডেশন থেকে ৬০ হাজার টাকা, ব্র্যাক থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং সরকারী একটি বাড়ি একটি খামার থেকে ২৫ হাজার টাকা লোন নেওয়া আছে। ছেলে না থাকায় সংসারে আয় রোজগার কমে গেলেও এনজিওর কিস্তি ঠিকই দিতে হচ্ছে। বিশালের বাবা মজিদুল সরকার বলেন, সরকারী ভাবে নাম ঠিকানা সব লিখে নিয়ে গেছে এখনও কিছু পাইনি। বাবা ছেলে মিলে উপার্জন করে একটা ভালো বাড়ি বানানোর স্বপ্ন ছিলো সেটা আর করা হলোনা। বিশালের বাবা মা আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমাদের ছেলে মারা গেছে সে শহীদ হয়েছে। আমি চাই দেশে যে সরকারই আসুক বর্তমান বা ভবিষ্যতে শুধু আমার ছেলে নয় আবু সাঈদ, মুগ্ধ সহ যারাই শহীদ হয়েছে তাদেরকে যেন শহীদের মর্যাদা দেয়। শহীদদেরকে স্বৈরাচার হাসিনা সরকার হত্যা করেছে তাদের যেন কঠোর থেকে কঠোর বিচার হয় এটাই আমাদের চাওয়া।
