×

মাচায় ঝুলছে হামিদের রঙিন স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাঁশের মাচায় নেট দিয়ে মোড়ানো নেটের ব্যাগে ঝুলছে হলুদ, কালো, সবুজ রঙের রসাল তরমুজ। আর অসময়ে উৎপাদিত এই তরমুজকে ঘিরে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের ভিমলপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ।
উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় তিনটি জাতের তৃপ্তি, অনুভব ও ব্লাক বেবি জাতের ব্লাক কুইন জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। এসব জাতের তরমুজ বর্ষাকালীন বিরূপ আবহাওয়া সহনশীল। এসব তরমুজ রসাল, মিষ্টি, খেতে বেশ সুস্বাদু। ফলনও হয় অধিক। স্থানীয় বাজারে এই তরমুজের চাহিদা থাকায় বিক্রি করতে ঝামেলা নেই। উপজেলায় কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তায় ৮ জন কৃষক এ পদ্ধতিতে (মাচা) তরমুজ চাষের প্রদর্শনী করেছন।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে প্রথমবার এবছর উপজেলায় ১ দশমিক ৬ একর জমিতে মাচা পদ্ধতিতে তৃপ্তি, অনুভব ও ব্লাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ প্রদর্শনি করা হয়েছে।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার ৮জন কৃষক, ২০ শতক করে জমিতে এই প্রদর্শনি করেছেন। এ চাষে কৃষকদের বীজ, জৈব সার, জৈব বালাই নাশকসহ সার্বিক পরামর্শ প্রদান করছেন কৃষি অধিদপ্তর।
এছাড়াও ফসল পরিচর্যার জন্য প্রতিটি কৃষককে তিন হাজার করে টাকা দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর। প্রদর্শনী ছাড়াও নিজ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও প্রায় এক একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন অনেক কৃষক।
ভিমলপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ ও হামিদুল হক জানান, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সার্বিক সহায়তা এবং পরামর্শে আমরা তরমুজ চাষ করেছি, ফলনও ভালো হয়েছে। তরমুজ গুলো বড় হতে শুরু করেছে, আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এগুলো বাজারজাত করতে পারবো। বর্তমান বাজার হিসেবে তরমুজ বিক্রি হলে তাদের প্রত্যেকের জমি থেকে এক থেকে দেড় লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে তারা আশা করছেন।

তরমুজ চাষের বিষয় তারা বলেন, তরমুজ চাষে খুব একটা ঝামেলা নেই, প্রথমে মাটি তৈরী করে বীজ বপন করতে হয়। চারা গজালেই বাঁশ দিয়ে মাচা করে একটু পরিচর্যা করতে হয়। এর পর পুরো মাচায় ধিরে ধিরে গাছের বান (লতায়) ছেয়ে যায় এবং ফল আসতে শুরু করে। ফল গুলো একটু বড় হলে সেগুলেতে নেট বেঁেধ দিতে হয়। গাছ লাগানোর তিন মাসের মাথায় তরমুজ বাজারজাত করা যায়। আমাদের দেখাদেখি অনেকেই তরমুজ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তারাও আগামীতে তরমুজ চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে প্রথমবার এবছর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকায় ১ দশমিক ৬ একর জমিতে মাচা পদ্ধতিতে তৃপ্তি, অনুভব ও ব্লাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ প্রদর্শনী করা হয়েছে। কৃষকদের বীজ, জৈব সার, জৈব বালাই নাশকসহ সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে সোমবার বিকেলে ভিমলপুর মাঠে তরমুজ প্রদর্শনী পরিদর্শ করেন দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের জেলা প্রশিক্ষক জাফর ইকবাল, প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক রাকিবুজ্জামান, মনিটরিং ও ইভালুয়েশন কর্মকর্তা মশিউর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ রুম্মান আক্তার, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর রহমান। পরে সেখানে তাদের উপস্থিতিতে স্থানীয় কৃষকদের তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য করুন

যে ঘরগুলোতে * চিহ্ন রয়েছে সেগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।