×

ঈদের পর বাজারে আসছে হাড়িভাঙ্গা আম

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের সুস্বাদু হাড়ি ভাঙ্গা আম বাজারে বিক্রি শুরু হবে ঈদের পর অর্থাৎ আগামী ২০ জুন থেকে। ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল আজহা। এর ২দিন পর ২০ জুন থেকেই বাজারে পাওয়া যাবে হাড়ি ভাঙ্গ আম। সংরক্ষণ পদ্ধতি না থাকায় এই আম পাকলে ৩ থেকে ৪ দিনের বেশি রাখা যায় না। আম চাষিরা বলছেন সংরক্ষণ পদ্ধতি থাকলে, দেশের চহিদা পূরণ করে বিদেশেও পাঠানো সম্ভব হতো এই আম। কৃষি বিভাগ বলছে, হাঁড়িভাঙ্গা আম সংরক্ষণে কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট গবেষণা করছে।

জানা যায়, জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত হাঁড়িভাঙ্গ আম এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সংরক্ষণ প্রক্রিয়া না থাকায় রপ্তানিকারকদের মাঝে অনিহা রয়েছে। ফলে বিদেশে বাণিজ্যিক ভাবে কৃষকরা এই আম রপ্তানি করতে পারছে না। বর্তমানে এই আমের সুখ্যাতি দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করলেও সুস্বাদু-সুমিষ্ট হাঁড়িভাঙ্গা আম পেকে গেছে ৩/৪ দিনের মধ্যে খেতে হয়। তা না হলে এই আম নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় সুধিমহল বলছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ এই আম সংক্ষণের পদ্ধতি বের করতে পারলে কৃষকরা এই আম দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে পাঠাতে পারত।

যেভাবে হাঁড়িভাঙ্গা আম রংপুরে এলো এনিয়ে রয়েছে নানা কথা ও চমকপ্রদ তথ্য। জেলার মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেকানি গ্রামের আমজাদ হোসেন জানান, প্রায় ৮০ বছর আগে তার বাবা নফল উদ্দিন এই গাছটি রোপণ করেছিলেন। তিনি গাছটি প্রসঙ্গে বলেন, শতবছর আগে মিঠাপুকুরের বালুয়া মাসুমপুর এলাকার জমিদার ছিলেন তাজ বাহাদুর সিংহ। তিনি খুব সৌখিন মানুষ ছিলেন। তার একটি ফলের বাগান ছিল। এই বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফল ছিল। পেশাদার কিছু আম ব্যবসায়ী তার বাগান থেকে আম নিয়ে পদাগঞ্জ হাটে বিক্রি করতো। সেখান থেকে তার বাবা এই হাঁড়িভাঙ্গা আম ক্রয় করে আবাদ শুরু করেন। আমটি খুবই সুস্বাদু হওয়ায় তৎকালীন আমলে ৫ টাকা দিয়ে একশ আম কিনে আনেন এবং আম খাওয়ার পর আমের আঁটি থেকে চারা গজায়। ভাঙ্গা হাড়ির টুকরোর মাঝখানে গাছটি জন্মেছিল বলে গাছটির নামকরণ করা হয় হাঁড়িভাঙ্গা। তখন থেকেই এই অঞ্চলে হাঁড়িভাঙ্গা আমের যাত্র শুরু হয়। সেই গাছটি এখন পর্যন্ত জীবিত রয়েছে এবং ফলও দিচ্ছে। আমজাদ হোসেন হাঁড়িভাঙ্গা আমের জনক হিসেবে তার বাবার স্বীকৃতি দাবি তরেন। ৭৫ বছর আগের হাঁড়িভাঙ্গা আমের যাত্রা শুরু হলেও ১৯৯২ সাল থেকে রংপুরে হাঁড়িভাঙ্গা আমের সম্প্রসারণ শুরু হয়। হাঁড়িভাঙ্গা আমের সম্প্রসারক আব্দুস ছালাম। তিনি হাঁড়িভাঙ্গা আমের ব্যাপক সম্প্রসারণ করেন। হাঁড়িভাঙ্গা আম ১ হাজার ৯০০ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়। প্রতি হেক্টরে প্রায় ১০/১২ মেট্রিকটন আমের ফলন হয়। যার মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি।

এদেিক জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এই আম ২০ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে পাওয়া যাবে। এই আমের সংরক্ষণ পদ্ধতি বের করতে ঢাকা কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট গবেষণা করছে।

মন্তব্য করুন

যে ঘরগুলোতে * চিহ্ন রয়েছে সেগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।