যন্ত্রের প্রভাবে অলস সময় পার করছে শ্রমিকরা


নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
উত্তরের জেলা দিনাজপুর এই অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ কৃষি শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু যন্ত্রের আগমনে দিন দিন বেকার হয়ে পড়েছেন এই এলাকার শ্রমিকরা।
দিনাজপুর জেলার সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন উপজেলা নবাবগঞ্জ জনসংখ্যা ২ লক্ষ ৫৪ হাজার ৩৬ জনের বসবাস। এর অধিকাংশ মানুষ কৃষি শ্রমের উপরে নির্ভরশীল,তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ সমতল আদিবাসীরা যাদের মূল পেশায় হচ্ছে শ্রমিক। তবে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ার ফলে দিন দিন কমে আসছে তাদের কাজের সুযোগ। এতে করে জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারের শ্রমিকরা। মাঠে মাঠে দেখা মেলছে ট্রাক্টর, হারভেস্টারসহ নানা আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার। তাই আগের মত শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না এখন। আগে যেখানে একটি জমিতে ধান কাটতে ১০-১৫জন শ্রমিক লাগত, এখন একটি মেশিন অল্প সময়ের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন করছে। এতে করে শ্রমিকের চাহিদা কমে যাচ্ছে,বেকার হয়ে পড়ছে অনেকেই।
উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে, সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সমতল আদিবাসী পল্লীগুলোতে অলস সময় পার করছে শ্রমজীবী শ্রমিকরা।
নবাবগঞ্জ উপজেলার রাঘবেন্দ্রপুর সিংড়া পাড়া গ্রামের মুক্তি টুডু বলেন, আগে ধান কাটার সময় আসলে আমরা খাওয়া সময় পাইতাম না। আর এখন কাজ নাই, বছরের বেশিরভাগ সময় বসে থাকতে হয়। দুই দিনের কাজের টাকা নিয়ে গেলে এক দিনের খাবার হয়। চাল, ডাল,আলু, বেগুন,শাক,তেল লবন নিতে টাকা শেষ। মাছ, মাংস খাওয়া তো স্বপ্ন।
যতীন হাজদা বলেন,আগে মাঠে গেলে কাজের অভাব ছিল না। এখন অনেক সময় সারাদিন বসে থাকি কাজ মেলে না। সরকার যদি আমাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে, বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করতো তাহলে পরিবার নিয়ে আমরাও ভালো থাকতাম, সরকারের কাজে আসতো।
উপজেলার ডাংঘাট গ্রামের হপেন কিসকু বলেন দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে শ্রমিকের কাজ করে পরিবার চালাই। আগের মত আর কাজ হয় না। বছরে বেশিরভাগ সময়ে বসে থাকি। এখন হাঁস, মুরগি গরু, ছাগল পালন করে কোন রকম দিন চলে যায়।
২নং বিনোদ নগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা বলেন,আমি সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আধুনিকতার কাছে দিন দিন কমে যাচ্ছে শ্রমজীবীদের কাজ। তবে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে।
