ফুলবাড়ীতে জমে উঠেছে ২’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার মেলা


নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে শুরু হয়েছে ২০২তম ঐহিত্যবাহী বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৪শতাধিক ঘোড়া নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছর ১৩ বৈশাখ আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেলা শুরু হয়। আগে মাসব্যাপী মেলা হলেও এখন এক সপ্তাহ স্থায়ী হয় মেলাটি।
সরেজমিনে উপজেলার ২নং আলাদিপুর ইউনিয়নের মেলাবাড়ীতে আজ রোববার দুপুরে দেখা যায়, মেলাবাড়ী ঈদগাহ, হাইস্কুল মাঠ, মাদ্রাসাসহ আশেপাশের খোলামাঠে বিশাল এলাকা জুড়ে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এ মেলা। মেলায় নাগর দোলা, গোলক ট্রেন, নৌকা রাইডসহ শিশু কিশোরদের বিভিন্ন খেলনা, মাটির খেলনা, নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান বসেছে। গ্রামীণ বিভিন্ন খাবারের দোকানে গরম জিলাপি, মিষ্টি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। এছাড়া মেলার প্রধান আকর্ষণ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা তো আছেই। এতে সব বয়সী নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছর বৈশাখ মাসের ১৩ তারিখে ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের মেলাবাড়ী মাঠে এই ঐতিহ্যবাহী বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলা বসে। এবার মেলাটির অনুমতি এক সপ্তাহ হলেও দুদিন আগে থেকেই বসতে শুরু করে। এক সময় এই মেলার বিশাল ব্যাপকতা থাকলেও কালের বিবর্তনে সংকুচিত হতে হতে মেলাটি ছোট পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়। মূলত ঘোড়া বেচাকেনা হয় বলে কৌতুহল বশত এই মেলায় জনসাধারণের উপস্থিতি বেশি থাকে।
উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের মেলাবাড়ী গ্রামের নুরুজ্জামান জামান বলেন, ঐতিহ্যবাহী বুড়া চিন্তমন ঘোড়ার মেলা ২শ বছর থেকে হয়ে আসছে। আমার জন্মের পর দেখে আসছি প্রতিবছর ১৩ বৈশাখ থেকে এ মেলা শুরু হয়। আগে বৈশাখের পুরো মাস দীর্ঘ হলেও গত সরকারের আমলে এ মেলা জৌলুস হারাতে বসে।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ থেকে আসা ঘোড়া ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান বলেন, এ বছর ৫টি ঘোড়া ঘোড়া নিয়ে মেলায় এসেছেন। প্রতিবছর ঘোড়া নিয়ে আসেন এ মেলায়। ১৩ই বৈশাখ থেকে ছাপা বের হবে বলে দুদিন আগেই এসেছেন।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা ঘোড়া ব্যবসায়ী আলফাজ হোসেন বলেন, সাধারণত বিভিন্ন এলাকায় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগীতায় অংশ নিই। এ মেলা সম্পর্কে আগে থেকেই জানি। তাই, নিজের পুরনো ঘোড়া বিক্রির পাশাপাশি নতুন শক্তিশালি ঘোড়া কিনব বলে এসেছি।
রংপুর থেকে ঘোড়া ব্যবসায়ী ফাহিম এসেছেন ‘নিউ পাওয়ার টেন’ নামের একটি ঘোড়া নিয়ে। এর দাম হাকা হচ্ছে সাত লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত ৫ লাখ টাকা দাম উঠেছে। সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা হলেই ঘোড়াটি বিক্রি করবেন বলে জানান ব্যবসায়ী ফাহিম।
স্বপ্নপুরী এলাকা থেকে মোজাফফর সরকার ছয়টি ঘোড়া নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, চল্লিশ বছর থেকে এই মেলায় আসেন। মেলায় ঘোড়া ক্রয় বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে বাড়িতে ঘোড়া লালন পালন করেন।
মেলার ইজারাদার মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পরও নেপাল, ভুটান, ভারত, পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে এই মেলায় ঘোড়া এসেছে। এখন বিদেশ থেকে ঘোড়া না আসলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেলায় ঘোড়া আনেন মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমরা চেষ্টা করছি ব্রিটিশ আমলে শুরু হওয়া এই মেলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে।
