

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুর পৌরসভা এলাকায় পুষ্টিমান বৃদ্ধিকরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মিউনিসিপ্যালিটি লেভেল মাল্টি-সেক্টরাল নিউট্রিশন কো-অর্ডিনেশন কমিটি (এমএলএমএনসিসি)-এর গুরুত্বপূর্ণ ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে দিনাজপুর পৌরসভার আয়োজনে ও নাইস (ঘওঈঊ) প্রকল্পের সার্বিক সহযোগিতায় পৌরসভার ফাতেহুল আলম (দুলাল) মিলনায়তনে এ সভা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
দিনাজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিনারুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, পুষ্টি বিশেষজ্ঞ সংস্থা, সুশীল সমাজ, যুব ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিবৃন্দ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নাইস প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সোহেল আহমেদ।
সভায় নাইস প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের অগ্রগতি, উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন সাফ বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার মোশফেকুল আলম তালুকদার। তিনি জানান, প্রকল্পটি কেবল সর্বসাধারণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এগ্রোইকোলজিক্যাল (কৃষি-পরিবেশগত) পদ্ধতিতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, চাহিদা বৃদ্ধি এবং কার্যকর সরবরাহ নিশ্চিত করতে দিনাজপুরে চলছে।
এমএলএমএনসিসি প্ল্যাটফর্মের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রকল্পের নিউট্রিশন স্পেশালিষ্ট নুসরাত আলম বিভা বলেন, “এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্থানীয় নারী ও যুব দল পৌর এলাকায় সার্বিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে, যা তাদের সৃজনশীল ও সামাজিক কার্যক্রম প্রসারে দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে।”
দিনাজপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণে সরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এমএলএমএনসিসি প্ল্যাটফর্মের সদস্যরা তাদের স্ব স্ব পুষ্টি কার্যক্রম চিহ্নিত করে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সকল সংস্থার এই যৌথ প্রইয়াসই নিশ্চিত করতে পারে একটি পুষ্টিকর ও টেকসই ভবিষ্যৎ।”
সভায় অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, নিরাপদ খাদ্য অফিসার, সিনিয়র তথ্য অফিসার, সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা। এ ছাড়া হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) স্কিল ডেভলপমেন্ট ক্লাব ও নিউট্রিশন ক্লাবের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, দিনাজপুর মহিলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং ইএসডিও-এর কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় মূল্যবান মতামত প্রদান করেন।
সভাপতির বক্তব্যে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিনারুল ইসলাম খান নাইস প্রকল্পের সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, “দিনাজপুর পৌরসভা নাইস প্রকল্পের চমৎকার উদ্যোগগুলোর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। এসব ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমকে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে শহরের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, যেন পুষ্টি সচেতনতা সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ে।”
সমন্বিত উদ্যোগে একটি পুষ্টিকর, নিরাপদ ও টেকসই পৌরসভা গড়ার নতুন অঙ্গীকার নিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
