বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চুরি করতে গিয়ে ঘোড়াঘাটে দাদীকে হত্যার মূল হোতা নাতিসহ গ্রেপ্তার-৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
অনলাইনে জুয়া ও মাদকাসক্ত হওয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় স্বর্ণালংকার, টাকা ও গয়না চুরি করতে গিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং হাত-পা বেঁধে বৃদ্ধা দাদী অলেদা বেওয়া (৭০) কে হত্যা করে নাতি রাব্বি। এঘটনায় তার নাতিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক্রাইম এন্ড অপস) আনোয়ার হোসেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অফিসার ইনচার্জ (ডিবি) আলমগীর হোসেন পিপিএম, ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নিহত অলেদা বেওয়া এর ২য় ছেলের ঘরের নাতি ফজলে রাব্বি (২৯), মসফিকুর রহমান রাজ (৩৪) এবং নাজমুল হুদা শান্ত (২৬)।
ফজলে রাব্বি ও নাজমুল হুদা শান্ত ঘোড়াঘাট উপজেলার এবং অপরদিকে মসফিকুর রহমান রাজ দিনাজপুর সদরের বাহাদুর বাজার এলাকার বাসিন্দা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, অনলাইন জুয়া ও মাদকাসক্ত হয়ে ঋণে জর্জরিত হয়ে যায় রাব্বি।
আর্থিক অনটনে পরে ঘোড়াঘাট উপজেলার পালশা ইউনিয়নের পূর্ব পালশা গ্রামে দিনে দুপুরে ২১ এপ্রিল ঘটনার দিন সকাল বেলা চুরির পরিকল্পনা করেন তারা। আলোচনা চলাকালীন সময়ে ফজলে রাব্বি জানায়, তার ফুফু (বৃদ্ধার ছোট মেয়ে রহিমা) বিদেশে ছিল এবং বিদেশ থেকে এসে তার দাদীর কাছে একসাথে থাকছে। তার দাদীর বাড়িতে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা পয়সা আছে। দিনের বেলা তার ফুফু ডুগডুগি বাজারে দর্জির দোকানে কাজ করে। বৃদ্ধা অলেদা বেওয়া বাড়িতে একাই থাকেন।
এ সময় রাব্বি জানায়, যদি আমরা ধরাও পড়ি তাহলে নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নেওয়া যাবে এবং মার খাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে। পরে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) একই দিন বিকেলে তিনজন মিলে ঘরে ঢুকে স্কচটেপ দিয়ে বৃদ্ধা অলেদা বেওয়ার হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিনভর জেলা গোয়েন্দা শাখা, সাইবার শাখা ও ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের যৌথ অভিযান চালিয়ে ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার গকুর নগর এলাকা থেকে ফজলে রাব্বি ও মসফিকুর রহমান রাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে ঘোড়াঘাট উপজেলার দেওগ্রাম এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নাজমুল হুদা শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক ভাবে তারা এই হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি হার, এক জোড়া বালা, এক জোড়া চেইন, এক জোড়া কানের দুল, এক জোড়া ঝুমকা এবং এক জোড়া রুপার নুপুর উদ্ধার করা হয়েছে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS