বীরগঞ্জে গ্রীষ্মের রঙ ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া


বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
গ্রীষ্মের শুরুতেই সামনে রাস্তাজুড়ে ফুটছে কৃষ্ণচূড়া। তপ্ত রোদ আর শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যেও প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে এই অপরূপ সুন্দরী ফুল।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে নতুন রূপে সেজেছে কৃষ্ণচূড়া ফুল।
বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে উপজেলার পাল্টাপুর, শিবরামপুর, শতগ্রাম, নিজপাড়া সহ শহরের বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস চত্বর এবং গ্রামীণ পথঘাট এখন লাল ও কমলা রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে।
এমন রূপের মূর্ছনা পথের ক্লান্তি নিমিষেই ম্লান করে দিচ্ছে সৌন্দর্য পিপাসুদের। মনের অজান্তেই প্রাকৃতির সৌন্দর্যের বন্দনায় মেতে উঠছেন অনেকেই। প্রশংসায় পঞ্চমুখ পথচারীরাও।
গ্রীষ্মকাল মানেই বাংলার পৃথিবীতে রঙের বিস্ফোরণ। সেই রঙিন উৎসবের প্রাণ ভোমরা যেন কৃষ্ণচূড়া ফুল। আর এই কৃষ্ণচূড়া জাদুতে মোড়ানো উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। সবুজ গাছগাছালির মধ্যে আগুন রাঙা কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিতে এনেছে ভিন্ন আমেজ।
আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলায় সুইচগেট এলাকায় এ দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায় বিশেষ করে কৃষ্ণচূড়া গাছের উজ্জ্বল কমলা-লাল ফুল পুরো এলাকাকে করে তুলেছে দৃষ্টিনন্দন। কোথাও রাস্তার দু’পাশ জুড়ে কৃষ্ণচূড়ার সারি, আবার কোথাও বাড়ির আঙিনায় কিংবা স্কুল প্রাঙ্গণে ফুটে থাকা রক্তজবা যেন প্রকৃতির নিজস্ব অলংকার হয়ে উঠেছে। সকালে সূর্যের কোমল আলোয় কিংবা বিকেলের মৃদু রোদে এই ফুলগুলোর রং আরও উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়, যা পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ে সহজেই।
স্থানীয় ভাবে কাজল গ্রামের বাসিন্দা মো বেলাল হোসেন জানান, প্রতি বছর এই সময়টাতে বীরগঞ্জে ফুল ফুটলেও এবারের দৃশ্য যেন কিছুটা ভিন্ন। ফলে পুরো উপজেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে এক নান্দনিক ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
পথচারী ও দর্শনার্থীরা থেমে থেমে উপভোগ করছেন এই মনোরম দৃশ্য। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন, যা বীরগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও ছড়িয়ে দিচ্ছে দেশজুড়ে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এ নিয়ে বাড়তি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ। স্কুল-কলেজে যাতায়াতের পথে তারা প্রতিদিনই উপভোগ করছে এই প্রাকৃতিক শোভা। অনেক শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করতে এই ফুলগাছের গুরুত্ব তুলে ধরছেন।
প্রকৃতিপ্রেমী মো নজরুল ইসলাম খান জানান , এ ধরনের সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে আরও বেশি করে গাছ লাগানো এবং বিদ্যমান গাছগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা হলে বীরগঞ্জের পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে।
সবমিলিয়ে, রক্তজবা ও কৃষ্ণচূড়ার রঙিন উপস্থিতিতে বীরগঞ্জ এখন যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে, যা মানুষের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তি ও আনন্দ।
