

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
স্বামীর মৃত্যুর পর বৃদ্ধ বয়সের একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা কাটাতে দ্বিতীয় বিয়ে করেন ৫৭ বছর বয়সী আমেনা বেগম। তবে সেই বিয়ে মেনে নিতে না পেরে প্রতিবেশীরা তার চলাচলের পথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে গত পাঁচ দিন ধরে নিজ বাড়িতে বন্দি অবস্থায় রয়েছে তিনি। ঘরে থাকা খাবার শেষ হওয়ায় অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটছে মৃত আইয়ুব আলীর স্ত্রী আমেনা বেগমের। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে একাকী জীবনযাপন করছিলেন আমেনা বেগম। সম্প্রতি তিনি ধর্মীয় ও আইনি রীতি মেনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে তার এ বিয়ে মেনে নিতে পারেননি এলাকার কয়েকজন প্রতিবেশী। এরপর থেকে তাকে নানা ধরনের মানসিক চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়।
প্রায় পাঁচ দিন আগে আমেনার বসতবাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র মেঠোপথে বাঁশ পুঁতে এবং আড়াআড়ি বাঁশ বেঁধে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয় এই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে শাহাজান মিয়া (৫০), তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৫৫) ও মইদুল আসলাম (৫৭)। ফলে তিনি বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। এমনকি তার কাছে কেউ খাবার বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে গেলেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে থানায় ও উপজেলায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর ভাই মরফিদুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী আমেনা বেগম বলেন, দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর, মানুষ দুর্নাম দেওয়ার আগে আমি বিয়ে বসছি, এটা কি আমার অপরাধ। বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথটি বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাসা থেকে বের হতে না পারায় কোন কাজ কর্ম করতে পারছি না। ঘরে খাবার শেষ হওয়ায় অনাহারে দিন কাটছে। বিষয়টি প্রশাসন ও থানায় জানানো হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
অভিযুক্তদের খোঁজ করে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্তদের স্ত্রীরা জানান, আমেনা বেগম আমাদের চাচী শাশুড়ি হয়। না বলে কেনো অন্য জায়গায় বিয়ে করছে । পুরুষের দরকার আমাদের কেন বলেনি। আমাদের বললে তো আমার দেখে শুনে বিয়ে দিতাম। তাই জেদ করে রাস্তা ঘিরে রাখছি।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকবার পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুই পক্ষকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি ।
