রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দিনাজপুরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরে ফুলবন ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রাজাক এর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে মাদ্রাসার হিতাকাঙ্খী এলাকাবাসী ও শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দ।
আজ বুধবার সকাল ১০ টা থেকে ১১ পর্যন্ত সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের রামডুবি এলাকায় অবস্থিত ফুলবন ফাযিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন আয়োজকরা।
মানববন্ধন চলাকালীন বক্তারা বলেন, ফুলবন ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো.আব্দুর রাজ্জাক অত্র মাদ্রাসায়  ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। তৎকালিন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদ্রাসায় স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক দুর্নীতি, বিধিবহির্ভূত আয় ও ব্যয় পরিচালনা, মিথ্যা ভাউচার প্রদর্শন, গভর্নিং বডিকে না জানিয়ে মাদ্রাসার একাউন্ট হতে গোপনে টাকা উত্তোলন সহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত। এমনকি তিনি অত্র মাদ্রাসায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদে মো. আবুল হাকিম কে নিয়োগ দিয়ে গভর্নিং বডির কোন সদস্য কে না জানিয়ে অতি গোপনে মাদ্রাসার উন্নয়নের নামে অতি কৌশলে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা গ্রহণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তৎকালিন গভর্নিং বডি অধ্যক্ষকে জিজ্ঞেস করলে তিনি ৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা গ্রহন করেছেন মর্মে স্বীকারোক্তিও প্রদান করেন। সাথে বর্ণিত অংকের টাকার কম্পিউটার কম্পোজ সীটের মাধ্যমে আয় ও ব্যয়ের হিসাব প্রদান করেন তিনি। প্রদত্ত হিসাবে তিনি মাদ্রাসার একাউন্টে ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন। বাকী সম্পূর্ণ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন বক্তারা।
বক্তারা আরো বলেন, পরবর্তীতে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি অধ্যক্ষের দুর্নীতি ও বর্ণিত অফিস সহকারী কাম কম্পিটার মো. আব্দুল হাকিমের নিকট হতে নেওয়া ঘুষ বানিজ্যের বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্তে অধ্যক্ষ সাহেব নিয়োগে উক্ত ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন মর্মে স্বীকারোক্তি প্রদান সহ ভূয়া হিসাব প্রদান করেন। তদন্ত কমিটি নিয়োগ প্রার্থী আব্দুল হাকিম এবং তার বাবা আজিজুল ইসলামকেও জিজ্ঞেস করলে তারাও বর্ণিত পরিমাণ টাকা প্রদান করেছেন মর্মে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। বিষয়টি সত্য ও প্রমানিত বলে দাবি করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক তৎকালিন গভনিং বডির সহ-সভাপতি মো. পিয়ার আলী শাহের স্বাক্ষর জাল করে মাদ্রাসার একাউন্ট ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন মর্মে সহ-সভাপতি মো. পিয়ার আলী শাহ তদন্ত কমিটির কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। তদন্ত পরবর্তীতেও অধ্যক্ষের দুর্নীতির অনেক অভিযোগ এলাকাবাসি, শিক্ষকগণের নিকট আছে।
বিষয়টি দুদকের নজরে পড়লে গেল বছরের ১০ নভেম্বর অধ্যক্ষ সাহেবকে দুদকের গণ শুনানীতে প্রমানিত হওয়ায় দুদক পরিচালক অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক এর বিরুদ্ধে অত্র মাদ্রাসার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন বলে বক্তারা জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা উত্তর কোতয়ালীর একমাত্র সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি বাঁচাতে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান।
এসময় বক্তব্য রাখেন ফুলবন ফাযিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো.আব্দুর রাজ্জাক মিয়া,সহকারী অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল, ইংরেজি লেকচারাল চন্দ্র কুমার দাস, সহকারী শিক্ষক আব্দুর রশিদ প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার হিতাকাঙ্খী এলাকাবাসী ও শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দ।
ফুলবন ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রাজাক মুঠোফোনে সময়ের আলোকে জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এবিষয়ে আইনী প্রক্রিয়া চলমান আছে। এছাড়াও প্রশাসনিক তদন্ত হয়েছে,যার জবাব লিখিতভাবে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This