সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দিনাজপুরে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে দিনাজপুর ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ডিআইএসটি)-এর আয়োজেন ‘নিয়োগকর্তা সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে শহরের পাহাড়পুরস্থ ডিআইএসটি’র সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের আর্থিক সহযোগিতায় এবং ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (সিসিপ)’ ও ‘বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স এসোসিয়েশন (বাইওয়া)’ এর যৌথ বাস্তবায়নে সভায় স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন এলজিইডি দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে হাতে-কলমে শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। আমাদের বিপুল যুবগোষ্ঠীকে যদি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা যায়, তবে বেকারত্ব অভিশাপ না হয়ে সম্পদে পরিণত হবে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারলে কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নই হবে না, বরং যুব সমাজের উপর মাদকের প্রাদুর্ভাব ও সামাজিক অবক্ষয়ও দূর হবে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ডিআইএসটি ও সিসিপ-বাইওয়া’র এই উদ্যোগ দিনাজপুরের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
ডিআইএসটি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুর রশীদ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিসিপ ও বাইওয়া প্রকল্পের চিফ কো অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার মো. আইয়ুব আলী সরকার, দিনাজপুর জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।
ইঞ্জিনিয়ার মো. আইয়ুব আলী সরকার বলেন, “এই প্রকল্পে আমরা নারী ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা যাতে সমাজ ও পরিবারের বোঝা না হয়ে সাবলম্বী হতে পারে, সেজন্য ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে এবং প্রশিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে হবে।”
বখতিয়ার আহমেদ কচি বলেন, “বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বহুমুখী দক্ষতা (গঁষঃরঢ়ঁৎঢ়ড়ংব ঝশরষষ) অর্জন করতে হবে। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনশক্তিকে চাকরি খুঁজতে হয় না, বরং চাকরিই তাদের খুঁজে নেয়।” তিনি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ডিআইএসটি’র ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রশীদ বলেন, “দিনাজপুর জেলার বিপুল জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখনো কর্মক্ষম শক্তির বাইরে। আমাদের লক্ষ্য হলো ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে সরাসরি চাকরিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করা। ব্যবসায়ী ও ডিআইএসটি’র এই সমন্বিত প্রচেষ্টা সফল হলে দিনাজপুর জেলা সারা দেশে একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি পাবে।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিসিপ ও বাইওয়া প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর (টিএএম) মোহাম্মদ এনামুল হক খান। এছাড়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রকল্পের বিস্তারিত কার্যক্রম উপস্থাপন করেন কো-অর্ডিনেটর (জেপিডি) মো. মহসীন আলী। তিনি নিয়োগকর্তা সভার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।
ডিআইএসটি’র প্রজেক্ট ইনচার্জ মো. মামুনুর ফেরদৌস এর সঞ্চালনায় সভায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ব্যবসায়ী সহিদুর রহমান পাটোয়ারি মোহন, উদ্যোক্তা বিজয়া রায়, ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম, মানবেন্দ্র দাস মনোজ, সুমন বাড়ই প্রমুখ। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিল্প মালিকদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়ক হবে।
সভা শেষে অতিথিবৃন্দকে ক্রেস্ট প্রদান করেন ডিআইএসটি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুর রশীদ।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS