

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা বাংলাদেশে নির্বাচনী ইশতেহারে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের কর্মসূচি নিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা পঞ্চগড় জেলায় আজকে এই বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং সংরক্ষণের জন্য এই পঞ্চগড়ের বৃক্ষ মেলার রেলির মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন করছি।
আজ শুক্রবার সকালে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে বৃক্ষরোপনে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ- স্লোগানে ১০দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও পঞ্চগড় বনবিভাগ আয়োজনে জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আবু সাইম, দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ফাহিম মাসউদ। এ সময় জেলা বিএনপির আহবায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, পঞ্চগড় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক তানভীর ইসলাম নাহিদ সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি রেলি বের করা হয় এবং রেলিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে এসে শেষ হয়।
মন্ত্রী বলেন,শুধু এটুকুই বলতে চাই আজকে আমাদেরকে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে। আমরা যেমন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করি, অক্সিজেন গ্রহণ করি। এই গাছ কিন্তু আমাদের সেই অক্সিজেন আমাদেরকে দেয়। আপনারা অবাক হয়ে যাবেন আমাদের উত্তরাঞ্চলে আমরা বিশেষ করে টু থেকে থ্রি পার্সেন্ট আমাদের এই গাছ থেকে আমরা অক্সিজেন সংগ্রহ করতে পারি অথচ পরিসংখ্যান বলে একটি মানুষের প্রতিনিয়ত প্রতিদিন বৃক্ষ থেকে প্রায় ২০% অক্সিজেন ধারণ করার কথা কিন্তু আমরা সেটা পাচ্ছিনা । আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে এই সমস্যাটা নেই । কাজেই সেক্ষেত্রে আমি মনে করি আমাদের প্রত্যেকটা অভিভাবককে আজকের এই বৃক্ষ মেলা থেকে আমাদেরকে শপথ নিতে হবে । আমি কোন পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাব সেখানে আমরা বৃক্ষরোপণের কথা বলবো। আমি মনে করি একটি মানুষ মানে একটি গাছ, একটি পরিবার মানে ৫ টি গাছ । একটি প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়ের হোক, কলেজ হোক, মসজিদ হোক, মন্দির হোক, সেটা আমি মনে করি আমরা সে সবুজায়ন করব ।
তিনি আরো বলেন, এজন্যই আজকে আমাদের তরুণ সমাজকে একথা বলতে চাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি একটা যে কোন পোস্ট দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনি একটি বৃক্ষরোপণ করুন এবং সেই বৃক্ষটা আপনি তত্ত্বাবধান করুন। তাহলে দেখবেন আমরা বাংলাদেশকে সবুজায়ন করতে পারবো।
তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী দিনে যে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের যে কর্মসূচি নিয়েছেন তার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবো। এবং এই বাংলাদেশকে আমরা জীববৈচিত্রের যে পরিবর্তনগুলো হচ্ছে সেই পরিবর্তনগুলো আমরা ইনশাল্লাহ সমাধানে যেতে পারব। এর ফাঁকে আমি একটু বলতে চাই বিশেষ করে গাছের সঙ্গে কিন্তু নদীর অনেক সম্পর্ক। আপনি দেখবেন এই যে নদী, নদীর পাড়ে গাছ হবে, জলাশয়ের পাড়ে গাছ হবে, এতে নদীর পাড় শক্তিশালী হবে এবং নদীর সেই পাশগুলো পানি ধারণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। যার মধ্য দিয়ে আজকে যেভাবে আমাদের বিভিন্ন জায়গায় অতিবৃষ্টি, কোথাও খরা, কোথাও বন্যা। এই যে জলবায়ুর যে পরিবর্তন আমি মনে করি আজকের এই বৃক্ষরোপণ এবং সংরক্ষণের মধ্য দিয়ে আমরা এটাকে দূর করতে পারব। আমি অনুরোধ করব প্রিয়
পঞ্চগড় বাসীর কাছে আমাদের এই পঞ্চগড় জেলায় কয়েকটি নদী আছে। আমাদের করতোয়া নদী আছে, তালমা নদী আছে, মহানন্দা নদী আছে। আমাদের এই নদীগুলোর পাড়ে যদি আমরা বৃক্ষরোপন করি। আমি আশা করি পঞ্চগড়ের যে বিশেষ করে টু থেকে থ্রি পার্সেন্ট গাছের মধ্য দিয়ে আমরা যে অক্সিজেন সংগ্রহ করি সেটা আমরা সমাধান করে আমরা একটা সুন্দর স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারব।
