

দিনাজপুর প্রতিনিধি
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম একটি প্রধান উৎসব হল রথযাত্রা। এটি রথযাত্রার প্রাচীন ও প্রচলিত শাস্ত্রীয় নিয়ম। প্রতি বছর রথযাত্রার শুভ আরম্ভ হয় আঁষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে, এর ঠিক নয়দিন পর অনুষ্ঠিত হয় ‘উল্টো রথ’। এই দিনে জগন্নাথ দেব, বলরাম ও সুভদ্রা তাদের মাসির বাড়ি থেকে পুনরায় মূল মন্দিরে ফিরে আসেন। এই প্রত্যাবর্তন যাত্রা ‘উল্টো রথ’ নামে পরিচিত। এই দিনে কিছু বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান ও নিয়ম পালন করা হয়।
বাংলাদেশে এই উৎসব বিশেষ উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। এছাড়া ইসকনের ব্যাপক প্রচারের জন্য এখন এটি বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর কৃষ্ণের বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের স্মরণে এই উৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের ইসকনের রথ ও ধামরাই জগন্নাথ রথ বিশেষ প্রসিদ্ধ।
আজ শুক্রবার দিনাজপুর গুঞ্জাবাড়ীতে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির প্রাঙ্গনে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য “উল্টো রথযাত্রা” পালিত হয়। সকাল থেকেই মন্দিরের সেবক, ব্রহ্মচারী ও হাজার হাজার ভক্তবৃন্দের অংশগ্রহনে শ্রীমদ্ভাগবত কথামৃত পরিবেশনা, কীর্ত্তন ও ধর্মীয় আলোচনায় মুখরীত ছিল মন্দির প্রাঙ্গন। এর আগে ১৬ জুলাই শুক্রবার শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রার মূল অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছিল সংকীর্তন সহযোগে রাজপথে বর্ণাঢ্য র্যালীর মধ্য দিয়ে। এর ঠিক নবম দিনে মন্দিরের প্রাঙ্গন থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতনীরা রথের দঁড়ি টেনে বিশাল র্যালীতে অংশগ্রহন করে বর্ণাঢ্য “উল্টো রথযাত্রা” শুরু করে। র্যালীটি গুঞ্জাবাড়ী থেকে শেড়শাহ বটতলী মোড়, বড়বন্দর, বাসুনিয়াপট্ট্রি, চারুবাবুর মোড়, নিমতলা, মাল্দাপট্টি, সাঁধনার মোড়, উত্তর বালুবাড়ি, টিকিয়াপাড়া, মহারাজার মোড়, শেড়শাহ বটতলী মোড় প্রদক্ষিন শেষে গুঞ্জাবাড়ীর শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির প্রাঙ্গনে এসে সমাপ্তি ঘটে।
এই উৎসব প্রসঙ্গে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের সভাপতি শ্রী বিক্রমী রাম দাস বলেন, ভাতৃত্বের মিলন মেলায় ভক্তবৃন্দের আগমন। এ দেশের ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কল্যাণের জন্য ভগবান জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার আয়োজন। আমরা প্রথম রথযাত্রা থেকে শুরু করে আজ “উল্টো রথযাত্রার” মধ্য দিয়ে আবারও দেশের মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।
এদিকে দিনাজপুর রায় সাহেব দেবোত্তর এস্টেট, রামকৃষ্ণ আশ্রম এবং রামকৃষ্ণ মিশন এই উল্টো রথ যাত্রা উপলক্ষে নানামুখী আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবটি পালিত হয়।
