

নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তঃনগর ফুলকুঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনটি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে যাত্রা শুরু করে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টায়, চলতে থাকে দুপুর ১টা পর্যন্ত । এ ট্রেনের নির্দিষ্ট কোন স্টেশন না থাকলেও যাত্রীরা ঠিকই পৌঁছে যান বিভিন্ন গন্তব্যে। ট্রেনটি নিজে না চললেও যাত্রীদেরকে পৌঁছে দেয় আলোর দিকে। এটি রেলপথে চলা কোন ট্রেন নয়, এটি একটি বিদ্যানিকেতন যার শ্রেণি কক্ষের রঙ করা হয়েছে ট্রেনের আদলে। এর যাত্রীরাও সবাই এই বিদ্যালয়েরই শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রী।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত ফুলকুঁড়ি বিদ্যানিকেতনের একডেমিক ভবনের রঙ করা হয়েছে আন্তঃনগর ট্রেনের আদলে। নাম দেয়া হয়েছে “ফুলকুঁড়ি এক্সপ্রেস। এ ট্রেনের গন্তব্য কোন নির্দিষ্ট স্টেশনে নয়। এ ট্রেনের গন্তব্য কেবল আলোর দিকে। বুদ্ধি ও রঙের শৈল্পিক ছোঁয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বেড়েছে কয়েকগুণ। নজর কেড়েছে অভিভাবকসহ দর্শনার্থীদের।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ কর্তৃক ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ফুলকুঁড়ি বিদ্যানিকেতন উপজেলার প্রথম বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন হওয়ায় এক সময় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের পদচারণায় মুখরিত থাকত বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমগ্র উপজেলায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করে বিদ্যালয়টি। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বার্ধক্য জনীত কারনসহ বিভিন্ন কারনে বিদ্যালয়টিতে ধ্বস নামে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি পার্শ্ববর্তী একটি স্কুল নিজের নামে নামকরণ ও আধুনিক অবকাঠামো তৈরি করলে ফুলকুঁড়ি বিদ্যানিকেতন আরও বিপাকে পড়ে। বিলম্বে হলেও বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আহমেদ হাছান এর সহযোগিতায় আবারও নতুন ভাবে যাত্রা শুরু করে বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষকে অবসরে পাঠিয়ে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়। তাঁর মনোনশীল ধারণা থেকেই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের রঙ আন্তঃনগর ট্রেনের আদলে করা হয়। এতে বিদ্যালয়টি আবারও ঘুরে দাঁড়ায়। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পায়।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। শ্রেনিকক্ষের দেয়ালে বিভিন্ন আল্পনা আঁকা হয়েছে। দরজা থেকে বাইরে ট্রেনের আদলে রঙ করায় ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা অনেক খুশি।
কয়েকজন অভিভাবক জানান, ফুলবাড়ীর পুরাতন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও ব্যক্তিস্বার্থ ও রাজনৈতিক কারণে বিদ্যালয়টি ধ্বংসের দারপ্রান্তে গিয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগের কারণেই বিদ্যালয়টি আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
বিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ মো. সোহরাব হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছানের প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এই কাজ এখনও চলমান। এর বর্তমান শিক্ষার্থী প্রায় দেড়শ। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি একাডেমিক উন্নয়নেও জোর দেয়া হয়েছে। ট্রেনের আদলে রঙ সম্পর্কে বলেন, এটি সম্পূর্ণ ইউএনও স্যারের কৃতিত্ব। তার কৃতিত্বেই বিদ্যালয় আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আহমেদ হাছান বলেন, উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত বিদ্যালয়টি সঠিক তদারকির অভাবে জড়াজীর্ণ হয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসায় উদ্যোগ নিয়ে সংস্কার কাজ শুরু করা হয়। এর কাজ এখনও চলমান রয়েছে। আশা করছি, গৃহীত উদ্যোগের ফলে বিদ্যালয়টি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।
