

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাঘাটায় যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন ৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকার কল্যাণপুরে ইবনে সিনা হাসপাতালে মারা গেছেন। এর আগে একই ঘটনায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বাবা ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সামছুল হোদা দুদু। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য; গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে উপজেলা চত্বরে প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সাথে যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুলের কথা কাটাকাটি হয়। স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সাময়িক মীমাংসা হলে সবাই চলে যান। তবে এর কিছু পরই বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে থাকা জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের ওপর যুবদল নেতা মুকুল, তাঁর ভাই পলাশ ও সহযোগীরা হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করে।
এসময় সালাউদ্দিনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে ধাওয়া করে গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সালাউদ্দিনকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ৪৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে সকালে মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় ২২ জুন নিহত সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সাঘাটা থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সাঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ মাহবুব আলম জানান, এ মামলায় প্রধান আসামী মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য গ্রেফতারকৃতরা হলেন আশরাফ, রবিউল, শাহ আলম এবং একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।
তবে স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতাদের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান জানান, প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটানো মূল হামলাকারী পলাশ এখনো এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আসামীপক্ষ ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন তারা।
