×

পঞ্চগড়ে কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধীদের পাশে নেদারল্যান্ডসের তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের অজপাড়া গাঁয়ে হঠাৎ দেখা মিললো নেদারল্যান্ডসের একদল তরুণের। শ্রমিকের মতো কাজ করছেন তারা। তবে কোন মজুরির আশায় নয়, তারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ভবন নির্মাণে। এই কাজে অংশ নিতে পেতে উচ্ছ্বসিত এসব তরুণরা।
কেউ বালুতে সিমেন্ট মেশাচ্ছেন, আবার কেউ বহন করছেন ইট। কেউ আবার নিখুঁতভাবে গাঁথছেন দেয়াল। পঞ্চগড়ের প্রত্যন্ত গ্রামে শ্রমিকের এই কাজগুলো যারা করছেন, তারা কেউ শ্রমিক নন- সবাই নেদারল্যান্ডসের বাসিন্দা। এদের কেউ স্কুল শিক্ষক, কেউ ব্যাংকার, কেউ আবার শিক্ষার্থী। কিন্তু কারো কাজে দক্ষতার কমতি নেই। শীত প্রধান দেশের এই স্বেচ্ছাসেবীরা কড়া রোদের মধ্যেই করে যাচ্ছেন কাজ। কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধীদের ঘর নির্মাণে উৎসাহ জোগাতেই কাজে নেমে পড়েছেন তারা।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ধাইধাইপাড়া এলাকায় জমি কেনেন আগমনী কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী সমাজ কল্যাণ সংস্থা। ওই জমিতে তাদের অফিস নির্মাণে দেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নেদারল্যান্ডের ওয়াল্ড সার্ভেন্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। আর ঘর নির্মাণের ইতিহাস হতেই এসেছেন ২৯ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী দল। তারা কয়েকদিন বাংলাদেশে অবস্থান করে আবারও ফিরে যাবেন। তাদের কাজে খুশি কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধীরাও।
কুষ্ঠরোগী ও প্রতিবন্ধীরা জানান, তাদের কাছে খুব ভালো লাগছে এ বিষয়টি।প্রতিবন্ধী মানুষেরা খুব খুশি ওদের কাজ দেখে। সবার সঙ্গে একসাথে সুন্দরভাবে কাজ করছে তারা।
প্রতিবন্ধীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন বিদেশি এই তরুণরা। অজপাড়া গাঁয়ে বিদেশিদের কাজ করার দৃশ্য দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। নেদারল্যান্ডের তরুণদের কাজে খুব খুশি স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘আমার সঙ্গে কাজও করছে। এই মহিলারাও কাজ করছে, পুরুষরাও একসঙ্গে কাজ করছে।’
অন্য আরেকজন বাসিন্দা বলেন, ‘তারা শীতপ্রধান এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আসে এই আটোয়ারীতে। তারা যে কাজ করছে এতে আমরা লেপ্রসি মিশন এবং আগমনী কুষ্ঠ প্রতিবন্ধী সংস্থা অত্যন্ত আনন্দিত।’
নেদারল্যান্ডের পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান উপজেলা প্রশাসনের।
পঞ্চগড় আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী বলেন, ‘আমরা প্রতিবন্ধীদেরকে মনে করি যে বোঝা। হ্যাঁ? তারা কিন্তু বাইরের দেশের দৃষ্টিতে একটা সম্পদ। তাদের এই মনমানসিকতা আমাদের মধ্যেও এখন সম্প্রসারণ হচ্ছে। আমরাও কিন্তু প্রতিবন্ধী বোন ভাই যারা আছে তাদেরকে এখন প্রতিবন্ধী না বলে, আমরা বলি যে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন বা গুণ সম্পন্ন মানুষ। এরকমই আমরা আখ্যায়িত করার চেষ্টা করছি। আমরা লোকাল থেকেও যদি সুযোগ থাকে, আমরা চেষ্টা করব তাদেরকে অনুপ্রেরণা দিয়ে।’
কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয় তারা সমাজের সম্পদ- এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চান নেদারল্যান্ডের এই তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা।

মন্তব্য করুন

যে ঘরগুলোতে * চিহ্ন রয়েছে সেগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।