

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
সকালে ক্লাসরুমে শিক্ষকতা, একটু অবসর সময়ে পেলে ছুটে যান নিজের কলাবাগানে। শিক্ষকতার পাশাপাশি এক একর ২০ শতাংশ জমিতে রঙিন সাগর কলা চাষ করে বাড়তি আয় স্বপ্ন দেখছেন সফল উদ্যোক্তা শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন।
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন। তিনি ২০০২ সালে সহকারি অধ্যক্ষ (আইসিটি) হিসেবে নবাবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি কি করা যায় ভাবনা আর কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকে অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে শুরু করেন কলা চাষ। প্রথমে দিকে ভয়ে কাজ করলেও কৃষি অফিসের পরামর্শে, নিজের পরিশ্রম, পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক সময়ে সার প্রয়োগে নিয়মিত নজর রাখেন শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন নিজে। আর সেই ভয়কে পেছনে ফেলে শিক্ষক থেকে আজ সফল কৃষি উদ্যোক্তা তিনি।
১.২০ একর জমিতে দেড় হাজার রঙিন সাগর জাতের কলার চারা লাগিয়েছেন তিনি। খরচ হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ।বিক্রির আশা করছেন ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিটি গাছে ১২টি করে ছড়ি ঝুলছে। শুধু তাই নয়, কলার বাগান থেকে চারা বিক্রি করে বাড়তি আয়ের সুযোগ রয়েছে তার। একই জমিতে এক ফসলে দুইটি ফলন । কলা বাগান থেকে চারা বিক্রি হবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। ১১ মাসের এই ফসল দেখে এখন অনেক আগ্রহ প্রকাশ করছে কলা চাষের জন্য। অনেকে আসছে বাগান দেখতে পাশাপাশি পরামর্শ নিতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি কলাগাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলছে কলার কাঁদি। প্রতিটি গাছেই রয়েছে একটি করে বাঁশের খুঁটি।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৫৪ হেক্টর জমিতে চিনি চম্পা, সাগর, তুলসী মনি, সবরী কলা চাষ হয়েছে।
শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষকতা আমার পেশা হলেও এর পাশাপাশি কি করা যায় বা অবসর সময়টাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় তা ভেবে শুরু করি কলা চাষ। কলা চাষের জন্য কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। সব খরচ বাদ দিয়ে এবার প্রায় ৪ লক্ষ টাকা আয় হবে আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সঠিক পরামর্শ অনুসরণ করে আমাদের দেশের কৃষকেরা কলা চাষের মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারে। কলাবাগান দেখতে প্রতিদিন অনেক আসছে কৃষকরা পরামর্শ নিতে ।
ফাহিম আহমেদ বলেন, একজন শিক্ষক হয়েও তিনি কৃষিকাজে যেভাবে সফল হয়েছে সত্যি তিনি প্রশংসার দাবিদার। তার বাগান দেখে আমরাও কৃষিকাজে আগ্রহী হচ্ছি। কিভাবে করা যায় পরামর্শ নিলাম আগামীতে আমিও করব।
ক্রেতা রেজাউল ইসলাম বলেন, কলা দেখতে খুবই ভালো। বাগান থেকে সরাসরি কিনতে পারছি। কলার মান ভালো হওয়ায় বাজারে চাহিদাও বেশি। বর্তমান বাজারে ১শ কাঁদির দাম ৪৫ হাজার থেকে শুরু করে ৫৫ হাজার টাকা চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস বলেন, কলা একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল, যাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি ও ভিটামিন সি। কলা চাষ করে একদিকে যেমন স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব তেমনি স্বাস্থ্য খাতেও এর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কৃষির প্রতি শিক্ষিত মানুষের আগ্রহ বাড়লে আধুনিক কৃষি আরও সম্প্রসারিত হবে। দেলোয়ার হোসেনের মতো শিক্ষকরা কৃষিতে যুক্ত হয়ে অন্যদেরও উৎসাহিত করছে। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষিকে ভালোবেসে দেলোয়ার হোসেন প্রমাণ করেছেন, যে অবসর সময়কে কাজে লাগাতে পারলে কৃষিও হতে পারে বাড়তি আয়ের উৎস।
