×

২৩ শিক্ষক-কর্মচারী, পরীক্ষার্থী ২৪, পাস করেছে ১ জন! অভিভাবকদের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার অম্রবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। বাকি ২৩ জনই ফেল করেছে। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ২৩ জন। এমন ফল বিপর্যয়ের পর বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্যরা। বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসীন্দারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে পাঠদানসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম চলে আসছে। শিক্ষকদের একটি অংশ নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে পাশের অম্রবাড়ী বাজারের চায়ের দোকানে আড্ডায় সময় কাটান। কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য অম্রবাড়ী গ্রামের মহসিন সরকার বলেন, ‘এ অঞ্চলের শিক্ষার হার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আমাদের পরিবার জমি দিয়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ের বর্তমান অব্যবস্থাপনা আমাদের সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করছে। শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাকিম, মনির হোসেন ও আব্দুল গফুরসহ একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। এবার মাত্র একজন শিক্ষার্থী পাস করার ঘটনায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাঁরা বিদ্যালয়ের এই ফল বিপর্যয়ের কারণ এবং অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অম্রবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেলজান আরা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘করোনার পর শিক্ষার্থীরা অটোপাস করে ওপরের শ্রেণিতে উঠেছে। এ কারণে তারা পরবর্তী সময়ে বোর্ড পরীক্ষাগুলো সঠিকভাবে দিতে পারেনি।’
করোনার প্রভাব শুধু অম্রবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পড়েছে, অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পড়েনি -এমন প্রশ্ন করা হলে দেলজান আরা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে না আসাও ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ‘ফল বিপর্যয়ের কারণ কী, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
একটি বিদ্যালয়ে ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিপরীতে এসএসসি পরীক্ষার্থী ২৪ জনের মধ্যে ২৩ জনেরই অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষকতা, পাঠদান ও বিদ্যালয় পরিচালনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু ফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করাই নয়, বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

যে ঘরগুলোতে * চিহ্ন রয়েছে সেগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।