

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে একের পর এক কৃষকের ফসলি জমির গাছ কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। গত কয়েক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে লাউগাছ, আমের চারা, বরইগাছ ও শিমগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। এতে ফসল উৎপাদনে বিনিয়োগ হারানোর পাশাপাশি চাষাবাদ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে কৃষকদের মাঝে। এসব ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলার ৮ নম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়নের পদুমহার গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলামের ৭০ শতক জমির রাতের আঁধারে লাউগাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে তাঁর প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন তিনি থানায় অভিযোগ করেন।
এরপর গত ২০ অক্টোবর একই ইউনিয়নের কৃষক তারা মিয়ার বাগানের ৪৭টি আমের চারা ও ৫৪টি বরইগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তিনিও থানায় অভিযোগ করেন।
কৃষক তারা মিয়া বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে বাগান তৈরি করি। আর কেউ এসে যদি এভাবে গাছ কেটে ফেলে। তাহলে আমরা কীভাবে বাগান করব? আমার বাগানের গাছ কাটার পরে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোর রাতে উপজেলার ৭ নম্বর দাউদপুর ইউনিয়নের মালদহ গ্রামে কৃষক হাফিজুল ইসলামের ২৫ শতক জমির প্রায় ৬০০টি শিমগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গাছগুলোতে ফলন এসেছিল। বর্তমান বাজারদরে শিম বিক্রি করতে পারলে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় হতো বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।
হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমি ২৫ শতাংশ জমিতে ৬০০টি শিমগাছ চাষ করেছি। এতে আমার প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গাছগুলোতে ভালো ফলনও হয়েছিল। বর্তমান বাজারদরে শিম বিক্রি করতে পারলে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় হতো।
তিনি আরো বলেন আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও স্বপ্ন ভেঙে গেছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, ফসল উৎপাদনে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে তাঁদের অনেক পরিশ্রম করতে হবে ফসল করতে। এভাবে যদি একের পর এক দুর্বৃত্তরা ফসল নষ্ট করে আমরা কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বো। আমরা চাই এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। পাশাপাশি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ।
নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, শিমগাছ কেটে দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উপজেলায় বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত করছে।
